বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন-আদালত
  6. আইসিটি
  7. আজকের পত্রিকা
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আবহাওয়া
  10. আমাদের পরিবার
  11. ইসলাম
  12. ইসলাম ও জীবন
  13. একদিন প্রতিদিন
  14. এশিয়া
  15. কৃষি

সিলেটে জাঁকজমকপূর্ণ এনসিএল টি-টোয়েন্টির পর্দা উঠছে আজ

প্রতিবেদক
surmaparerkotha
ডিসেম্বর ১১, ২০২৪ ১২:২৭ অপরাহ্ণ

সুরমা পারের কথা ডেস্কঃ

 

ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ক্ষুদ্র সংস্করণ মাঠে গড়াবে আজ বুধবার থেকে। এনসিএল টি-টোয়েন্টির ভেন্যু সিলেটে মঙ্গলবার ট্রফি পৌঁছেছে। এর আগে পরশু সোমবার উন্মোচিত হয় ট্রফি। সিলেটে মঙ্গলবার দলগুলোর জার্সি উন্মোচন ও ক্যাপ্টেন্স মিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আগে এনসিএল টি-টোয়েন্টি অনেকটা প্রস্তুতি হিসেবে কাজে দেবে। বিশেষত, দেশি ক্রিকেটারদের জন্য বেশ দারুণ এক মঞ্চ এটি।

ইতোমধ্যে আইসিসি থেকে এনসিএল টি-টোয়েন্টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজ ১১ ডিসেম্বর শুরু হয়ে আসর চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে।

জাঁকজমক দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে একমাত্র নিয়মিত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএল। তবে সেটি মূলত দেশি-বিদেশির ক্রিকেটারদের মিলিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর। স্থানীয় ক্রিকেটারদের যথাযথ চর্চায় রাখা, টি-টোয়েন্টিতে নতুন প্রতিভা তুলে আনার জন্য অন্তত আরেকটি নিয়মিত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দাবি ছিল অনেক দিনের। সেই লক্ষ্যেই শুধু দেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে নতুন আঙ্গিকে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি শুরু করতে যাচ্ছে বিসিবি।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হিসেবেই বিবেচিত হবে এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো। যেটির মানে, টুর্নামেন্টের সবকিছুই থাকবে রেকর্ডে।

জাতীয় লিগের টি-টোয়েন্টির আয়োজন অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১০ সালে একবার হয়েছিল এটি। তবে পরে আর চালু থাকেনি।

২০১৯ ও ২০২১ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও ছিল টি-টোয়েন্টি সংস্করণ। এছাড়া ২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টি, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ আয়োজন করে বিসিবি। ২০০৯ ও ২০১০ সালে পোর্ট সিটি ক্রিকেট লিগ নামেও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়। কোনোটিই এক-দুই আসরের বেশি স্থায়ী হয়নি।

এবার বিসিবির আশা, এখন থেকে নিয়মিত এনসিএল টি-টোয়েন্টি আয়োজনের মাধ্যমে বিপিএলে তো বটেই, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভালো করার জন্য নিজেদের তৈরি করতে পারবেন দেশের ক্রিকেটাররা।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের সংস্করণের আট দলই খেলবে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে। সাত বিভাগীয় দল- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে অংশ নেবে ঢাকা মেট্রো।

২০১০ সালে ছয় দলের জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে কিংস অব খুলনাকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছিল রাজশাহী রেঞ্জার্স। সেবার প্রতি দলে দুজন করে বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর সুযোগ ছিল।

প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বের খেলা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুই মাঠে হবে। পরে প্লে-অফ ও ফাইনাল হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

তবে পরে পরিকল্পনায় বদল আনা হয়। আগামী ২৩ ডিসেম্বর তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে ‘মিউজিক্যাল ফেস্ট’ হবে শেরেবাংলায়। এটির জন্য মূলত আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ চেয়েছিল বিসিবি। সেই অনুমতি পায়নি তারা। তাই এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট পুরোটাই হবে সিলেটে।

আট দলের অংশগ্রহণে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি। প্রতিটি দল পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে একটি করে ম্যাচ।

লিগপর্বের সাত ম্যাচ করে খেলার পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল পাবে প্লে-অফের টিকেট। বিপিএলের মতোই ফাইনালের প্রথম দল বেছে নিতে টেবিলের শীর্ষ দুই দল নিয়ে হবে প্রথম কোয়ালিফায়ার। তৃতীয় ও চতুর্থ দল খেলবে এলিমিনেটর ম্যাচ।

পরে এলিমিনেটর জয়ী ও প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দল খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। ওই ম্যাচের জয়ী দল নামবে শিরোপার লড়াইয়ে।

আট দলের দুই সপ্তাহের লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির পাশাপাশি পাবে ২০ লাখ টাকা। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে ১০ লাখ টাকা। এছাড়া টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার ২ লাখ ও প্রতি ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার পাবেন ২০ হাজার টাকা।

সিলেটে মঙ্গলবার দলগুলোর জার্সি উন্মোচন ও ক্যাপ্টেন্স মিটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ৮ দলের আট অধিনায়ক টি-টোয়েন্টি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলেছেন।

রংপুর বিভাগের অধিনায়ক আকবর আলী ক্যাপ্টেন্স মিটে বলেছেন, ‘এটা আমাদের অনেক দিনের চাওয়া। বিপিএলের বাইরে শুধু স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট অনেক বছর ধরেই চাচ্ছিলাম। যেটা এবার হচ্ছে। অনেক ভালো উদ্যোগ। আশা করি, প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট হবে। এটা সামনের বিপিএলেও সাহায্য করবে।’

ঢাকার অধিনায়ক নাঈম শেখ বলেছেন, ‘আমাদের দল সিনিয়র-জুনিয়র মিলে ভালো একটা সমন্বয় আছে। মনে হয় আমার দলের বোলিং আক্রমণ খুবই ভালো। আমরা চাচ্ছিলাম বিপিএলের আগে এরকম একটা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হোক। তো এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা টুর্নামেন্ট।’

এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিয়েই মাঠে ফিরছেন তামিম ইকবাল। দেশের সেরা এই ওপেনার খেলবেন চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে। এই দলটির অধিনায়ক ইয়াসির আলী। দলে তামিমের থাকাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন ইয়াসির, ‘তামিম ইকবালের মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটার থাকা একটা বুস্ট আপ। তিনিও চাইবেন সেরাটা যেন দিতে পারেন। তার উপস্থিতি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও অনেক বড় অনুপ্রেরণা।’

বরিশালের অধিনায়ক সোহাগ গাজী মাঠে সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন, ‘মাঠের ক্রিকেট আসলে যারা ভালো খেলবে, তাদের কাছেই ফল যাবে। আমরা চেষ্টা করব মাঠে কত ভালো খেলা যায়। ভুল-ত্রুটি যত কম করা যায়।’

সর্বশেষ - জাতীয়