বুধবার , ১ জানুয়ারি ২০২৫ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩১
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন-আদালত
  6. আইসিটি
  7. আজকের পত্রিকা
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আবহাওয়া
  10. আমাদের পরিবার
  11. ইসলাম
  12. ইসলাম ও জীবন
  13. একদিন প্রতিদিন
  14. এশিয়া
  15. কৃষি

নতুন সূর্যের আলোয় আলোকিত হোক ধরা

প্রতিবেদক
surmaparerkotha
জানুয়ারি ১, ২০২৫ ১:০৫ অপরাহ্ণ

সুরমা পারের কথা ডেস্কঃ

 

পূর্বাকাশে নতুন সূর্য উদিত হওয়ার মধ্যদিয়ে ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকার নতুন দিন শুরু হলো আজ। ঘন কুয়াশা সরিয়ে উদ্ভাসিত নতুন সূর্য সব জরা-জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আরও একটি নতুন বছরের সূচনা করল। বিদায় ২০২৪, স্বাগত ২০২৫ সাল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নববর্ষকে আবাহন করে তাঁর কবিতায় লিখেছেন-…ছন্দে ছন্দে পদে পদে অঞ্চলের আবর্ত-আঘাতে/ উড়ে হোক ক্ষয়/ ধূলিসম তৃণসম পুরাতন বৎসরের যত/ নিষ্ফল সঞ্চয়॥”
অনেক হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় মেশানো ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘটনাবহুল ২০২৪ সালের শেষ সূর্য অস্ত গেছে কাল। বিতর্কিত নির্বাচন, পরে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনসহ নানা ঘটনা ঘটেছে বিদায়ী বছরে। সবকিছু ছাপিয়ে লাখো প্রত্যাশার ঝাঁপি খুলে আজ ভোরে কুয়াশা ঢাকা পূর্বাকাশে উদয় হয়েছে নতুন বছরের লাল সূর্য। আর এই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুরু হচ্ছে ২০২৫ সাল। জাতির অনেক আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ হবার বছর। নতুন বছরকে স্বাগত সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির প্রত্যাশায়।
অনাদিকাল থেকে সৌরজগতের নিখুঁত নিয়মে প্রতিদিন সূর্যোদয় হয়। প্রতিদিনের মতো আজও সূর্য উঠেছে। শীতের কুয়াশা সরিয়ে উঁকি দিয়েছে উজ্জ্বল রোদ। কিন্তু অন্য যে কোনো দিনের চাইতে আজকের ভোরের আলোতে যেন বেশি মায়া মাখানো। যেন নতুন স্বপ্নের কথা বলছে। বলছে, সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে শুভময়তা ছড়িয়ে যাবে দেশে, পৃথিবীময়। আশাজাগানিয়া সূর্যকিরণ যেন সে দ্যুতিই ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রত্যেকের প্রাণে, মনে।
দুপুর গড়িয়ে ধীরে ধীরে তেজোদীপ্ততা ছেড়ে মলিন হতে শুরু করেছে সূয্যিমামা। ডিমের কুসুমের মতো গোলাকার সূর্যটা দেখে মনে হতে পারে কপালজুড়ে লাল টিপ দিয়ে সেজেছে বাংলার বধূ। তবে সাজবেই বা না কেন? তার যে বিদায় নেওয়ার পালা। আর এই সূর্যাস্ত শেষে দিবাগত রাতের প্রথম প্রহরেই প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব নিয়ে বিদায় নিল আরও একটি বছর। বিশ্বের বয়স বাড়ল আরও এক বছর। নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আর ‘হিংসা, হানাহানি, সাম্প্রদায়িকতা ও যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব’ দেখার প্রত্যাশার ঝাঁপি খুলে আজ বুধবার বিশ্বময় আশা জাগানিয়া যে নতুন সূর্যটি উঠেছে, সেটি নতুন বছরের। বিদায় ঘটনাবহুল ২০২৪, স্বাগত ২০২৫ সাল। হ্যাপি নিউ ইয়ার।
মানুষের মনে অজস্র প্রশ্নের সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ নতুন বছর ২০২৫। বাংলাদেশে নতুন এক ইতিহাস রচনা করে বিদায় নিয়েছে ২০২৪ সাল। নতুন বছরে মানুষের প্রত্যাশা হিংসা-হানাহানি কাটিয়ে দেশকে আবার গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসবে অন্তর্বর্তী সরকার। সহিংস রাজনীতির অশুচি কাটিয়ে অস্তাচলে গেল যে সূর্যটি, আজ পূর্বদিগন্তে শাশ্বত সেই সূর্যেরই উদয়ন হয়েছে নতুন সৌন্দর্যের আবাহন ঘটিয়ে।
দেশের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই এবার এসেছে নতুন বছরটি। নতুন বছরে দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার শেষ করে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন নোবেল বিজয়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আর সংস্কারকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলেরও কোনো কমতি নেই। অতীতের সবকিছু পাল্টে দিয়ে সরকার থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা, বড় বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টিকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গেও সমঝোতার মাধ্যমে সৃদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলাও নতুন বছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এসব নানা চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু হলো নতুন আরও একটি বছর।
তবে নতুন বছরে সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষের একটি প্রশ্ন থেকেই গেছে। আর তা হলো অনেক ঘটনার ও ইতিহাস সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর পর দেশে এবার সত্যিই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে? প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নতুন এই বছরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, নাকি আরও সময় লাগবে? নির্বাচন অনুষ্ঠানে বেশি সময় লাগলে অন্তর্বর্তী সরকারকে কী সেই সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি আবারও দাবি আদায়ে কেউ কেউ রাজপথ বেছে নেবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেশবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রতি বছর পহেলা জানুয়ারি আমাদের মধ্যে আসে। আমরা আলোড়িত হই। আনন্দ-উল্লাসের সঙ্গে আমরা অঙ্গীকার করি, নতুন বছর নতুনভাবে চলতে। নতুনভাবে জীবন-যাপন করতে, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। ব্যক্তিচরিত্র বদলেরও অঙ্গীকার করি আমরা। পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করে নেওয়াই মানুষের সহজাত প্রবণতা। তবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সংস্কৃতি, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বছরটি কেমন গেল, তার হিসাব-নিকাশ সবাই করে থাকেন।
বর্ষ বিদায়ের আট-দশটা বছরের মতো এক নয় ২০২৪। যুগ যুগ ধরে ২০২৪ সালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অমর সাক্ষী হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে বিদায়ী বছরটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ইতিহাসেরও অংশ হয়ে থাকবে। ছাত্র-জনতার অদম্য লড়াই আর হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে গত ৫ আগস্ট দেশের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। Travel
এখানেই শেষ নয়, ২০২৪ সাল বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নবীন প্রজন্ম সাহসী লড়াই করে দেশকে দীর্ঘতম শাসনের কবল থেকে ছিনিয়ে এনেছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ লড়াই ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সমকালীন বিশ্বের বিরল এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। জনতার এই অভ্যুত্থান গোটা বিশ্বকে অবাক করেছে, তেমনি রচিত হয়েছে প্রবল আন্দোলনের একটি অন্যরকম ইতিহাস। স্বাধীনতার পরে ২০২৪ সালে অন্যরকম এক ইতিহাসের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ।
তবে যা-ই হোক, কালপরিক্রমায় দ্বারোদ্ঘাটন হলো নতুন বছর ২০২৫-এর। চেতনায় জাগ্রত আবহমান সেই মাঙ্গলিক বোধ-অতীতের জীর্ণতা অতিক্রান্ত দিনমাসপঞ্জির হিসাব থাক বিস্তৃতির কালগর্ভে, প্রত্যাশায় বুক বাঁধি নতুন দিনের সূর্যালোকে- তবে উদ্ভাসন হোক সজীব-সবুজ নতুনতর সেই দিনের- যা মুছে দেবে অপ্রাপ্তির বেদনা; জাগাবে নতুন প্রত্যয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবার প্রেরণা।
হাজারটা কালো মেঘের ছায়া সরিয়ে দিয়ে উঠেছে নতুন বছরের সূর্য। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে ভয়াল যুদ্ধের দামামার মধ্যেও মাথা তুলে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে পৃথিবীর মানুষ। হয়তো মেঘ ঘনাবে আবার, তবু সাহসের পতাকা উড়াতে শিখেছে তারা। মৃত্যুর গন্ধমাখা, আতঙ্কের তীব্রতা বা ক্লান্তিভরা শিথিলতা এমন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই সময় এসেছে নতুন বছরে শান্তিময় বিশ্ব দেখার প্রত্যাশা।
সদ্য বিদায় নেওয়া বছরকেও ভুলতে পারবে না বিশ্বের মানুষ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের অমানবিক যুদ্ধ। সারাবিশ্বই এ নিয়ে এখন নাজুক অবস্থানে। তাই নতুন বছরে বিশ্বের সব মানুষের এখন একটাই আশা- পৃথিবী থেকে দূর হোক হিংসা, হানাহানি, প্রাণঘাতী যুদ্ধ। পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাক শান্তির সুবাতাস। তাই ২০২৪-কে বিদায় জানাতে ভারাক্রান্ত হয়নি কোনো মানুষের মন। বিশ্বের মানুষ নতুন বছর ২০২৫-কে স্বাগত জানিয়েছে নতুন আশায় বুক বেঁধে।
তমসা কেটে পূর্ব দিগন্তে আবহমান সূর্য আবার শুরু করল নতুন যাত্রা। ‘সময় আর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না’- এই সত্যকে পুনর্ব্যক্ত করে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়। যুদ্ধের দামামা বন্ধ করে দিনবদলের অপরিমেয় প্রত্যাশার আলোয় উদ্ভাসিত শুভ নববর্ষ। মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল আরেকটি বছর ২০২৪। শুরু হলো নতুন বছর ২০২৫। সুপ্রভাত বাংলাদেশ; স্বাগত ২০২৫। হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৫। অভিবাদন নতুন সৌরবর্ষকে।

নতুন ইংরেজি বছর উপলক্ষে মঙ্গলবার পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গোধূলি বেলায় রক্তিম সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্য দিয়ে হারিয়ে গেছে ঘটনাবহুল ২০২৪ সালটি। উদিত হয়েছে নতুন বছরের নতুন সূর্য। প্রত্যাশা কেবল মানুষের উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ, শান্তি, স্বস্তি, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির দেশ গড়ার। এ প্রত্যাশা রেখেই আজ বুধবার থেকে যাত্রা শুরু হলো নতুন বছরের। স্বাগত ২০২৫, বিদায় ২০২৪।

সর্বশেষ - জাতীয়