সুরমা পারের কথা ডেস্কঃ
মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাক হোল)। এবার সেই রহস্যের পর্দা আরও খানিকটা সরাতে উদ্যোগ নিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো একটি সুপারম্যাসিভ কৃষ্ণগহ্বরের চলমান ভিডিও বা ‘মুভিং ইমেজ’ ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক গবেষণা দল। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই উদ্যোগ মহাকাশ গবেষণায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (ইএইচটি) প্রকল্পের আওতায় আগামী মার্চ ও এপ্রিল মাসে মেসিয়ার ৮৭ (M87) গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা বিশাল কৃষ্ণগহ্বরটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে ইভেন্ট হরাইজনের প্রান্ত ঘিরে থাকা ঘূর্ণায়মান গ্যাস ও ধূলিকণার ডিস্কের ধারাবাহিক ছবি সংগ্রহ করে একটি ভিডিও তৈরি করা। ইভেন্ট হরাইজন হলো সেই সীমা, যার বাইরে থেকে আলো বা কোনো বস্তু আর ফিরে আসতে পারে না।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিযুক্ত প্লুমিয়ান অধ্যাপক ও ইএইচটি প্রকল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেরা মার্কফ বলেন, এই মুভি ক্যাম্পেইন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে এটি আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বহু গুণ এগিয়ে নেবে। এর মাধ্যমে আমরা কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণনের গতি এবং কীভাবে শক্তিশালী জেট তৈরি হয়- সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাব।
২০১৯ সালে ইএইচটি প্রথমবারের মতো একটি কৃষ্ণগহ্বরের ছায়ার ছবি প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে এই প্রকল্পে অ্যান্টার্কটিকা থেকে শুরু করে স্পেন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২টি শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ যুক্ত রয়েছে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্য একত্র করে প্রতি কয়েক দিনে একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করা হবে। পরে সেগুলো যুক্ত করে তৈরি হবে একটি চলমান দৃশ্য।
বিজ্ঞানীদের হিসাবে এম৮৭ গ্যালাক্সির কৃষ্ণগহ্বরটির ভর প্রায় ৬০০ কোটি সূর্যের সমান এবং এর বিস্তৃতি পুরো সৌরজগতের সমান। এত বিশাল আকারের কারণে এটি ধীর গতিতে পরিবর্তিত হয়- যা ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।
গবেষকদের মতে, কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণনের গতি জানা গেলে বোঝা যাবে এগুলো কীভাবে এত বড় হয়েছে- ধীরে ধীরে আশপাশের বস্তু টেনে নিয়ে নাকি অন্য কৃষ্ণগহ্বরের সঙ্গে একীভূত হয়ে। পাশাপাশি কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত বিশাল শক্তিশালী জেট গ্যালাক্সির ভেতরে তারার জন্মের হার নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্যালাক্সির সামগ্রিক বিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।
সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্লুমিয়ান অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সেরা মার্কফ। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের তত্ত্বাবধানে এই মর্যাদাপূর্ণ পদটির সূচনা হয়েছিল ১৭০৪ সালে। তিনি জানান, বিজ্ঞানে কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে তিনি এই পদকে কাজে লাগাতে চান। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



















