সুরমা পারের কথা ডেস্কঃ
প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডিলেড টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে মাত্র ২০ বলেই ১৯ রানের লক্ষ্য টপকে যায় অজিরা। একপেশে লড়াইয়ে জিতে পাঁচ ম্যাচের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্র্রফিতে ১-১ সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া।
অ্যাডিলেড টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই জয়ের সুবাশ পাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারত যে খুব বেশি রানের লক্ষ্য দিতে পারবে না, তা বোঝা যাচ্ছিল আগে থেকেই। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৮০ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা। পরে ট্রাভিস হেডের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা তাদের প্রথম ইনিংসে রান তোলে ৩৩৭। আর তাতেই বড় লিড পেয়ে যায় তারা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই অজি পেসারদের তোপে কোনঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারীরা। ১০৫ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন পাঁচজন। নিতীশ রেড্ডির ৪২ রানের ওপর ভর করে কোনো রকমে ইনিংস পরাজয় এড়ায় ভারত। ১৭৫ রানে অলআউট হলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৯ রান। সেই লক্ষ্য মাত্র ২০ বলেই টপকে যায় তারা।
৫ উইকেটে ১২৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৪৭ রান যোগ করতেই বাকি পাঁচ ব্যাটারকে হারায় সফরকারীরা। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ডের পেস তোপের সামনে তারা টিকতেই পারেনি। মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যেই বাকি পাঁচ জনকে হারিয়ে তারা অলআউট হয়ে যায় ১৭৫ রানেই। আর তাতেই ১৯ রানের লক্ষ্য পায় অজিরা।
দিনের প্রথম বলেই রিশভ পন্তকে ফেরান স্টার্ক। ৩১ বলে ২৮ রান করা এই ব্যাটার সেকেন্ড স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১৪ বলে ৭ রান করে রবীচন্দ্রন অশ্বিন আউট হন কামিন্সের বলে। হার্ষিত রানা দুই ওভার ক্রিজে থাকলেও কোনও রান না করেই তাকে ফিরতে হয়।
ভারতের হয়ে দুই ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেছেন নিতীশ কুমার রেড্ডি। কামিন্সের বলে নাথান ম্যাকসুয়েনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ বলে ৪২ রান। ৮ বলে ৭ রান করা মোহাম্মদ সিরাজকে আউট করেন বোল্যান্ড। আর তাতেই শেষ হয় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার ম্যাকসুয়েনে ও ওসমান খাজা মাত্র ২০ বলেই খেলা শেষ করে দেন। ম্যাকসুয়েনে ১২ বলে ১০ এবং উসমান খাজা ৮ বলে ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১০৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। খাজা আউট হন বুমরাহ’র বলে রোহিতের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ম্যাকসুয়েনে ১০৯ বল খেলে করেন ৩৯ রান। তিনিও বুমরাহ’র শিকার। মার্নাস লাবুশেনের ব্যাট থেকে আসে ১২৬ বলে ৬৪ রান।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করতে থাকেন ট্রাভিস হেড। ১৪১ বলে ১৪০ রান করে সিরাজের বলে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এরপর আর কেউ ২০-এর উপরে রান করতে পারেনি। ৮৭.৩ ওভার ব্যাটিং করে ৩৩৭ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। আর তাতেই ১৫৭ রানের বড় লিড পায় তারা।
প্রথম ইনিংসে স্টার্ক নিয়েছেন ৬ উইকেট। কামিন্স ও বোল্যান্ড নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ভারতের হয়ে বুমরাহ ও সিরাজ নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে অজিদের হয়ে ৫ উইকেট পেয়েছেন কামিন্স। বোল্যান্ড ৩টি এবং স্টার্ক নেন দুটি উইকেট।