সুরমা পারের কথা ডেস্কঃ
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আজ জাতি একত্রিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এই অপরাধগুলোর সঠিক তদন্ত এবং বিচারের উদ্দেশ্যে।’
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এবং এটি কোনও ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই নিজস্ব গতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ‘এই বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত না করে এগিয়ে নেওয়াই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব,’ বলেন ইউনূস।
রোববার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও দক্ষতা বিষয়ক’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সময়। সামনে জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি। তরুণরা তাদের রক্ত দিয়ে যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে। এই ঐতিহাসিক সুযোগ আর দ্বিতীয়বার আসবে না। এই সুযোগ যেন হারিয়ে না যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু হাজারো মানুষের আত্মত্যাগে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে। এই জাগরণে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হবে বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে—জুলাই অভ্যুত্থান ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত যে গভীর আধিপত্য ও পক্ষপাতিত্ব রয়ে গেছে, তা ভেঙে ফেলার তীব্র আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে এটি ইন্ধন পেয়েছিল। বিপ্লবের প্রতি আমাদের লক্ষ্য—আমাদের সব কর্মের দ্বারা পরিচালিত একটি ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও মর্যাদা সৃষ্টি করা। এই অভ্যুত্থান পুরনো শৃঙ্খলা ভেঙে এমন একটি রাষ্ট্রকে উন্মোচিত করতে চেয়েছিল, যাতে কোনও একক দল কখনও মরিয়া বা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে না পারে। এই আশা এবং অনুপ্রেরণা এখন আমাদের পুনরুত্থানের কঠিন কাজে সন্তুষ্টি জাগায়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এমন এক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা, যেখানে থাকবে স্বাধীনতা, সাম্য ও মর্যাদা। এই বিপ্লব সেই পুরনো শাসন কাঠামো ভেঙে নতুন রাষ্ট্রের রূপরেখা উন্মোচন করেছে, যা আজ আমাদের কাজের অনুপ্রেরণা।’
সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘বর্তমান সংস্কারের একজন গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। এই সংস্কার শুধু খণ্ডিত কোনও প্রয়াস নয়; বরং এটি এমন পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা গত ৫৪ বছরে হয়নি। আমাদের উদ্দেশ্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে স্বৈরশাসনের কোনও স্থান থাকবে না।’
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এই দায়িত্ব পালনে আমি অটল থাকবো।’



















